গত সপ্তাহান্তে গিয়েছিলাম পেন্সিলভেনিয়ার স্টেট কলেজে
ভাইঝির কাছে । মাত্র ক’দিন আগে সে তার গবেষণার
কাজ শেষ করতে পেরে একেবারে গার্ডেন – দিল হয়েই ছিল ,তার ওপরে দীর্ঘ দিন পরে আমাদের
কাছে পেয়ে সে খুশীতে ডগমগো । বললে “চল তোমাদের একটা অদ্ভুত জিনিষ দেখিয়ে আনি”।
এদেশে পড়তে এসে ইউনিভার্সিটিতে যাতায়াতের সুবিধে হবে
বলে বেশ ভাল অবস্থায় থাকা ঢাউস একখানা গাড়ি কিনে ফেলেছিল । এবার সেই গাড়িতে আমাদের
বসিয়ে নিজে স্টিয়ারিং এ গিয়ে বসল । গাড়ি ছুটে চলল শহরের বাইরে বড়রাস্তায় । সাঁই সাঁই
করে পিছনে সরে সরে যাচ্ছে একটার পর একটা সুন্দর
সাজান গ্রাম । সে গ্রামের সঙ্গে আমাদের দেখা গ্রামের মিল পাওয়া দুস্কর । মাইলের পর
মাইল সবুজ ঘাসে ঢাকা প্রান্তর – তারই মাঝে মাঝে এক একটা ভিলার মত বাড়ি । কোনটা ছোট
আবার কোনটা বেশ বিশাল মাপের । মনে হয় যেন কোন সম্পন্ন মানুষের বাসস্থান । ভাইঝির ধারাভাষ্যে
জানা গেল বাড়িগুলি সব এখানকার চাষীদের । ভাইঝির জ্যাঠাইমার বিশ্বাস হয়না । বলে – হ্যা!!
এই গুলো নাকি সব চাষীদের বাড়ি !” আমি বিজ্ঞের মত ফোড়ণ কাটলাম “আরে চাষী বলতে দেশে আমরা
যাদের বুঝি ,এরা কি আর তেমন চাষী?দেখোগে যাও এদের প্রায় সকলেরই বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা
সবি আছে আর এদের অনেকেই যথেষ্ট ধণী ও । শুধু চাষবাসের সুবিধে হবে বলে বড় শহরে না থেকে
এই রকম জায়গায় বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে”।
সুন্দর বাঁধান রাস্তার ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি ছুটেছে
এবার দুপাশে দেখা যাচ্ছে ভুট্টা চাষের ক্ষেত । ফসল উঠে গেছে – ন্যাড়া ক্ষেত জুড়ে পড়ে
আছে ভুট্টাগাছের হলুদ গোড়াগুলি – আমাদের ধানকাটা হয়ে যাবার পর পড়ে থাকা খড়ের গোড়া বলেই
ভুল হয় দূর থেকে । পথে যেতে যেতে একটা জায়গায় দেখা গেল বেশ সুন্দর একটি ঘোড়ায় টানা
কোচ গাড়ি চলেছে গড়গড়িয়ে । ছোট্ট কোচটিকে পেরিয়ে যেতে গিয়ে এক ঝলক নজরে এল কোচের ভিতরে
কয়েকজন সুসজ্জিত নারীপুরুষ চলেছে । ঘোড়ার নধরকান্তি চেহারা দেখে দুচোখ জুড়িয়ে গেল ।
তার কালচে গায়ের ত্বকে সূর্যের আলো যেন ঠিকরে পড়ছে । ভাইঝির ধারাবিবরণী চলছিলই – সে
বললে “এরা বোধহয় আমিষ সম্প্রদায়ের লোক জন…” জিজ্ঞাসু চোখে তার দিকে তাকাতেই সে জানালো
এদিকে কোথায় যেন কয়েকটা গ্রাম আছে যেখানে মানুষেরা আধুনিক প্রযুক্তিকে তাদের জীবনে
অনুপ্রবেশ করতে দেয়নি । তারা বিজলিবাতি জ্বালায়না, অটোমোবাইল ব্যবহার করেনা ইত্যাদি
ইত্যাদি”।
গল্পের ফাঁকে একটা জায়গায় চোখে পড়ল তারের জালের বেড়ায়
ঘেরা বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের মাঠে কালো কালো
চমরি গাইয়ের মত এক দল বিশালকায় প্রাণী চরছে । ভাইঝি রাস্তার ধারে গাড়ি থামাতেই নেমে
পড়ে বেড়ার কাছে গিয়ে দাড়ালাম । প্রাণীগুলিকে চমরী গাই এর মতই দেখতে , কিন্তু তাদের
মধ্যে একটি অতিকায় চেহারার গাই ভীষন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে শিং বাগিয়ে বেড়ার কাছে
এসে মাটিতে শিং ঘষতে ঘষতে এমন ভঙ্গীতে নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করল তাতে মনে হল তারের
বেড়া না দেওয়া থাকলে আমরা হয়ত বিপদে পড়ে যেতাম । পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে নিয়ে গাড়িতে
উঠে পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হল ।
চমরী গাই দের দলটাকে পিছনে ফেলে আর কিছুদূর যেতে না
যেতেই দেখা গেল রাস্তা থেকে আনেকটা দূরে জঙ্গলের
গাছগাছালির ফাঁকে একটি ধবধবে সাদা হরিণ একলা দাঁড়িয়ে যেন কিছু একটা চিন্তায় মগ্ন হয়ে
আছে । এমন হরিণ আমি এই প্রথম দেখলাম । ভাল করে চার পাশটায় নজর করে দেখলাম সাদা হরিণছাড়াও
বাদামি রঙের এক ঝাঁক হরিণ সামান্য দূরে ঘাসপাতা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোষ্ঠীসুখ উপভোগ
করছে । তাদের হাবেভাবে সাদা হারিণটির মত উদবেগের কোন লক্ষণ দেখলাম না । এখানেও আমার
অভ্যাস মত কিছু ছবি তুলে নিয়ে আমাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেলাম।
পার্কিং এ গাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে ভাইঝি ঘোষনা করল “আমরা
এসে গেছি পেন্স কেভ এ।এখানে আমরা বোটে করে একটা টানেলের মধ্যে দিয়ে যাব – টানেলের ভেতরে
দেখতে পাব minerals deposites কেমন অদ্ভুত আকৃতি ধারণ করেছে জায়গায় জায়গায়” । প্রায়
পঞ্চাশ ডলার দিয়ে তিনজনের জন্যে টিকিট কেটে একটা ঢালু পথ বেয়ে নামতে নামতে গিয়ে পৌঁছলাম
একটা গুহার মুখে । ভারি মিষ্টি চেহারার এক যুবক আমাদের অভ্যর্থনা করে বসালেন একটি বোটে।
তিনিই একাধারে আমাদের মাঝি এবং গাইড । প্রাথমিক আলাপচারিতা শেষ হলে তিনি জানালেন আরো
পনেরজন যাত্রী আসছেন ,তারা এসে গেলেই আমাদের
যাত্রা শুরু হয়ে যাবে । মনে মনে ভাবছিলাম “এই রে , এ আবার সেই জামশেদপুরের অটোওয়ালাদের মত বসিয়ে রাখবে
নাকি ! যতক্ষণ না “পাসিঞ্জার” ভরে যাচ্ছে ততক্ষণ সে গাড়ি ছাড়বেই না । অবশ্য সুখের কথা
, বাকি পনেরজন পাসিঞ্জার এসে পৌঁছোতে সময় লাগলনা ।
বোট চালু করার আগে মুখবন্ধ হিসেবে গাইড সংক্ষেপে কিছু
কিছু ব্যপারে আমাদের সতর্ক করে দিলেন। যেমন বোট সফর কালে কোন কারণেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়া
যাবেনা , গুহার মধ্যে দেওয়ালে হাত দেওয়া যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি । তার পর মুচকি হেসে
জানালেন “ আপনাদের অবগতির জন্য বলি, যদিও যাত্রী
সুরক্ষার খাতিরে সীটের নিচে লাইফ জ্যাকেট রাখা আছে তবু নিশ্চিন্ত হবেন জেনে যে এই বোট সফরের বিগত একশ বছরের ও অধিক কালের ইতিহাসে কোন যাত্রী কোনদিন
জলে পড়ে জাননি । আশাকরি দয়া করে উত্তেজনার বশে আপনাদের মধ্যে কেউ প্রথম হতভাগ্যটি হবেননা
।
পেট্রল চালিত ইঞ্জিন চালু করে গাইড ধীরে ধীরে বোটটাকে
অন্ধকার গুহার মধ্যে চালিয়ে নিয়ে চললেন । ওপরের ভূতল থেকে একশ ফুট নিচে সুড়ঙ্গের সামনের
দিকে জমাটবাঁধা অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা
যায়না ,বাদ বাকি যে দিকে তাকাই শুধুই পাথরের দেওয়াল – আর তার খাঁজে খাঁজে অন্ধকার ওৎ
পেতে বসে আছে । কোথায় চলেছি কোথায় গিয়ে এ সুড়ঙ্গের শেষ জানিনা,বুকের ভেতরে কেমন যেন গুরুগুরু মেঘগর্জনের শব্দ পাচ্ছি ।অন্ধকারের মধ্যে
পুরোপুরি হারিয়ে যাবার ঠিক আগের মুহূর্তে গাইড একটা ইলেক্ট্রিক টর্চ জ্বালিয়ে পাশের
পাথুরে দেওয়ালে আলো ফেললেন, অন্ধকারের অতল থেকে ভেসে উঠল তার কন্ঠস্বর ।
-“ওই দিকে চেয়ে দেখুন হাজার
হাজার বছর ধরে প্রকৃতি অতি সঙ্গোপনে কেমন তিল তিল করে গড়ে তুলেছে আপন খেলাঘর ।
অবাক হয়ে চেয়ে দেখলাম অনুচ্চ ছাদ থেকে কেউ যেন ঝুলিয়ে রেখেছে সরুসরু পাথরের ঝালর ।
কোথাও বা পাথরের দেওয়ালে যেন মহার্ঘ রত্নহার টাঙ্গান । অল্পক্ষণের মধ্যেই আবিস্কার
করলাম কখন জানিনা মনের যাবতীয় দুর্ভাবনা কর্পূরের মত উবে গেছে । আমি সুঢ়ঙ্গের মধ্য
দিয়ে অন্ধকারের অভিসার যাত্রাটুকু উপভোগ করতে আরম্ভ করেছি ।
সুড়ঙ্গপথে অতি ধীর
গতিতে এগোতে এগোতে একজায়গায় এসে আমাদের
নাও থামল । গাইডবাবু কোথায় যেন লুকিয়ে
রাখা সুইচ টিপে লাল নীল আলো জ্বালিয়ে দিলেন। সেই রঙ্গীন আলোয় একদিকের দেওয়ালে ফুটে
উঠল স্বপ্নের রাজপূরী । তার প্রবেশ তোরণের কি বাহার ।দুপাশে কারুকাজ করা পাথরের থাম । মনে মনে কল্পনা করতে চেষ্টা
করছিলাম এই প্রাসাদের কোন ঘরে সোনার পালঙ্কে
ঘুমিয়ে আছে রাজকন্যা । গাইড আমাদের কল্পনাকে একটু অন্য পথে চালিয়ে দিতে
চাইলেন - পাথরের projection গুলি নাকি প্রায় একশ বছরে এক মিলিমিটার মত বাড়ে! তাহলেই
কল্পনা করে নিন কত লক্ষ বছরে গড়ে উঠেছে এই প্রাসাদ আর তার প্রবেশ তোরণ !হিসেবটা মনে মনে কষতে গিয়ে নিজেই হেসে ফেললাম । ভাইঝি পাশ থেকে ফুট কাটল
“জ্যেঠু , এ আমাদের অঙ্ক কষিয়ে নিতে চায় গো” । গাইড তখনও ব্যখ্যা করে চলেছেন কোন পাথরের কি
ধর্ম । কোনটা ক্যালসাইট।তার মধ্যে কোথায় একচাংড়া পাইরাইট এর ভেজাল মিশে গেছে , কি
ভাবে তিলে তিলে mineral deposites বাড়তে থাকে ! কিন্তু সে কথায় কান দেবার মত
মানসিক অবস্থা আমার ছিলনা । আমার মূগ্ধ চোখ রূপেই মোহিত ।
ভেলা ভাসিয়ে আর কয়েক কদম এগিয়েই ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলেন গাইড।
চার পাশে একেবারে নিরন্ধ্র অন্ধকার ।গাইডের কন্ঠস্বর শোনা গেল –“আমরা এবার স্বর্গের
বাগানে এসেছি ।কথা বলতে বলতে কোন অদৃশ্য খাঁজে হাত ঢুকিয়ে সুইচ টিপে দিলেন ,আর সঙ্গে
সঙ্গে চোখের সামনে সত্যি সত্যি এক অতি মনোরম বাগান জেগে উঠল । তার দূর প্রান্তে ঘন সবুজ নিবিড় বনাণী
মাঝে অনেকটা খোলা বাগানে যেন অসংখ্য অপার্থিব অবয়ব হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে ।আমাদের
মুগ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় দিয়ে গাইড আবার তার ধারা ভাষ্য
শুরু করলেন । “এই সুড়ঙ্গটি শেষ হয়েছে একটি ছোট্ট ঝিলে কিন্তু দুদিন আগে পড়া বরফ গলা
জল আর আগেরদিনের বৃষ্টির জল সবএসে জমেছে এই সুড়ঙ্গে তাই সুড়ঙ্গের জল অনেকটা ওপরে উঠে
এসেছে । এই অবস্থায় আমরা সুড়ঙ্গের অপর প্রান্ত অবধি যেতে পারবনা”। সত্যিই সুড়ঙ্গের
মধ্যে বেশ কয়েকটি বাঁকেঅদূরে দেখিএক অতিকায়
তিমি মাছ হাঁ করে যেন আমাদের ভেলা সুদ্ধ গিলে ফেলার অপেক্ষায় রয়েছে ! তার কন্ঠনালী
ঘন অন্ধকার – ওই ছিদ্র পথ পার হয়ে যাওয়া সত্যিই দুস্কর । আর ইতিপূর্বেই বেশ কয়েকটি
বাঁকে মাথা বাঁচানর জন্যে আমাদের সামনের দিকে
ঝুঁকে মাথা নুইয়ে পার হতে হয়েছে । গাইড আমাদের আরো জানালেন যে সেদিন সকালেই তিনি তার
বান্ধবীকে নিয়ে এই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে একেবারে ঝিল অবধি যাবার চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু
কিছুটা জলেরতল এবং প্রবল স্রোতের কারণে এখান থেকে আর এগোতে না পেরে ফিরে গিয়েছিলেন
। এখান থেকে ফিরতি পথ ধরতে যাত্রীদেরও কেউই আপত্তি জানাল না ।
গাইড এবার বললেন পরিশেষে এই সুড়ঙ্গ পথ কে ঘিরে একটা
প্রেমের কাহিনী জুড়ে আছে। ফেরার আগে আপনাদের সেই কাহিনীই পরিবেশন করি ।
আজ থেকে তিনশো
বছর আগে পেন্সিলভেনিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তখনও সভ্যতার আলোক এসে পৌঁছয়নি । বনজঙ্গলে ভরা এই সব এলাকায় ছিল রেড ইন্ডিয়ান
দের বিভিন্ন গোষ্ঠীর বসবাস । তেমনি একটি গোষ্ঠীর ডেরা ছিল কাছেই অধূনা বেলফন্ট এ ।
গোষ্ঠীর মুখিয়া ও-কো-চো । তার ছিল সাত ছেলে আর নিটানি নামে পরমা সুন্দরী এক কন্যা । সাত ভাই
তাদের ছোট বোনকে যত্নে আদরে সদা সর্বদা ঘিরে রাখত । যাতে বিপদের কোন আঁচ না লাগে তাদের
ছোট বোনটির গায়ে ।
সেই সময় এক বসন্ত প্রভাতে নিটানি গাঁয়ের ছোট্ট নদীটির ধারে দাদাদের শিকার করে আনা হরিণের চামড়া ধুতে ব্যস্ত তখন
হঠাৎ ই তার নজর পড়ল ঝর্ণার ধারে দাঁড়িয়ে এক সুদর্শন বিদেশী যুবক তার দিকে মূগ্ধ
দৃষ্টিতে চেয়ে আছে । প্রথম দর্শনেই প্রেম হয়ে গেল দুজনের । নিটানি জানতে পারল
ঝর্ণার ও পাশেই যুবকটি তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছে গত কিছু দিন যাবৎ । নিটানির প্রেমে
পাগল ফরাসী আভিযাত্রী মালাচি বোয়ে তার প্রেমাস্পদকে পাবার আগ্রহে নানান উপঢৌকনে বশ
করে ফেলল নিটানির বাবা ও-কো-চো কে । তাতেও বিশেষ সুবিধে হলনা কারণ অজ্ঞাতকূলশীল
বিদেশী যুবকের হাতে কোন বাবা তার আদরের কন্যাকে তুলে দেবে । অগত্যা নিটানি এবং
মালাচি বোয়ে একদিন কাউকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল ।
ভাগ্য বিরূপ ছিল নিটানি আর মালাচির । গাঁ ছেড়ে
বেশী দূরে পালিয়ে যাবার আগেই তারা ধরা পড়ে গেল নিটানির দাদাদের হাতে । মুখিয়া
ও-কো-চোর দরবারে । বিচার পর্ব শেষে সাজা ঘোষনা হল । বিদেশীকে কোনো একটি জলে ভরা
অন্ধকার গুহায় ফেলে দেওয়া হোক যাতে সেই গুহার মধ্যেই তার মৃত্যু হয় ।
এই সেই গুহা যার মধ্যে নিটানির দাদারা মালাচি কে
ফেলে রেখে গিয়েছিল এবং অন্ধকার গুহা থেকে বেরিয়ে যাবার পথ না পেয়ে কিছুদিনের মধ্যেই
মালাচি মারা যায় । উপসংহারে গাইড বলেন – “জানেন তো আজও লোকে বলে এই গুহার মধ্যে
কান পাতলে এখনও শোনা যায় মালাচির আত্মা নাম নিটানি... নিটানি ... বলে প্রেমিকাকে ডেকে
চলেছে । এমনকি কোনও কোনও পাথরে হাত ছোঁয়ালে আপনারাও হয়ত নিটানির নাম শুনতে পাবেন ।
কিন্তু দয়া করে পরখ করার আগ্রহে কেউ সত্যি সত্যি পাথরে হাত দেবেননা যেন।
মালাচি-নিটানির প্রেমগাথা স্মরনীয় করে রেখেছে পেন্সিলভেনিয়ার লোক।
মনে পড়ে গেল গুহায় নামার আগে ওপরের যে ঘরে টিকিট
কেটেছিলাম তার এক ধারে কাচেঘেরা মালাচি বোয়ের একটি আবক্ষ মূর্তি দেখেছিলাম । পরে
ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে গিয়ে Nitani lion এর পাথুরে মূর্তিও দেখেছি
। এই Nitani Lion এর মূর্তি পেন্সিলভেনিয়া রাজ্যের emblem হিসেবেও ব্যবহার হয় । ঠাট্টা
কিনা জানিনা ,গাইড জানালেন পেন্সিল্ভেনিয়ার অনেক প্রেমিক প্রেমিকা যূগলের বিয়ের অনুষ্ঠান
এই গুহায় আয়জিত হয় । বোটের যাত্রীরা সমস্বরে গাইডের কাছে জানতে চাইলেন বান্ধবীর সঙ্গে
তার বিয়েটাও কি এই গুহায় হবে ? মুচকি হেসে গাইড জানালেন তাদের ইচ্ছা অনেকটা সেই রকমই
। আমরা ততক্ষণে ফিরে এসেছিলাম গুহার মুখে । এবার আমার কথাটি ফুরোল , নটে গাছটি মুড়োল
।